আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন জেলা আদালতের বিচারক অ্যালিসন বুরোফস শুক্রবার এই আদেশ দেন, যা প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।হার্ভার্ডের পক্ষ থেকে দায়ের করা জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ করেছিল, স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রামে তাদের অংশগ্রহণ বাতিল করে প্রশাসন তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে।এই পদক্ষেপের নেতৃত্বে আছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, “হার্ভার্ড সহিংসতা ও ইহুদি-বিরোধিতা প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সহযোগিতা করছে,” যার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির এসইভিপি অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, “এই সিদ্ধান্ত শুধুই প্রতিহিংসামূলক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ।” তারা আদালতে অভিযোগ করেছে যে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিলে হার্ভার্ড তার বৈশ্বিক ও একাডেমিক পরিচয় হারাবে।ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বিশ্ববিদ্যালয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপর ভিত্তিহীন নজরদারি চেয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও গবেষণা কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।বর্তমানে হার্ভার্ডে ৬,৮০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ২৭ শতাংশ। প্রশাসনের পদক্ষেপ কার্যকর হলে এসব শিক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হতে হবে।বিচারক বুরোফস রায়ে বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে হার্ভার্ড এবং তার শিক্ষার্থীদের “চরম ক্ষতি” হতে পারে। তিনি ২৭ ও ২৯ মে তারিখে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেন, “এই হামলা হার্ভার্ডের ওপর নয় কেবল, বরং উচ্চশিক্ষার মৌলিক নীতির ওপরও।” তিনি প্রশাসনের পদক্ষেপকে “অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ” আখ্যা দিয়েছেন।এই মামলাটি শুধু হার্ভার্ডের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কতদূর গড়ায়।